
সুত্র প্রথম আলো
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং (জিন নকশা উন্মোচন) হয়। এখন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজে আছে সেঁজুতি। সেখান থেকে তাঁর গবেষণার নানা দিক সম্পর্কে সম্পর্কে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পার্থ শঙ্কর সাহা। আপনার নেতৃত্বে একটি দল বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং বা জিন নকশা উন্মোচন করেছে। আপনার পুরো কাজটা নিয়ে শুরুতেই কিছু বলুন।
সেঁজুতি সাহা: আমি বাংলাদেশে এসেছি ২০১৬ সালে। শুরু থেকেই আমি জিনোম সিকোয়েন্সেই কাজ করতে চাই। ওই কাজের জন্যই আমি মূলত কানাডা থেকে পিএইচডির পরে দেশে ফিরে গিয়েছি। আমি যখন প্রথম জিনোম সিকোয়েন্সিং নিয়ে কাজ শুরু করলাম, আমি কাজ করতান মেনিনজাইটিস নিয়ে। মেনিনজাইটিস হলো মস্তিষ্কের একটা রোগ। মেনিনজাইটিস হলে অনেক শিশু মারা যায়, কিন্তু তার থেকেও বেশি শিশু সারা জীবন পঙ্গু হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে আমরা বুঝতে পারি না, কোন জীবাণু দিয়ে এই মেনিনজাইটিস রোগটি হচ্ছে। এই জিনোম সিকোয়েন্সিং করেই আমি বুঝতে চাই কী জীবাণু দিয়ে মেনিনজাইটিস রোগটি হচ্ছে। ওখান থেকেই জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের কাজ শুরু। ২০১৮–তে জিনোম সিকোয়েন্সার মেশিন আমরা পেলাম, যেটা ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের জিনোম সিকোয়েন্সিং করে থাকি। কখনো কোনো ব্যাকটেরিয়া করেছি বা ফাঙ্গাস করেছি। ২০১৯ সালের শেষে এসে আমরা ভাইরাসও সিকোয়েন্সিং করা শুরু করলাম। আমরা শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসগুলোকেই সিকোয়েন্সিং করা শুরু করেছি। যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, আরএসভি (RSV) ভাইরাস। এগুলো করতে করতে আমাদের এক ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। এগুলো করতে করতে অবশ্য কখনো ভাবিনি যে করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করব।
এ বছরের ২৯ মার্চ আমাদের ল্যাব অনুমতি পেল কোভিড-১৯–এর জন্য টেস্টিং ল্যাব হিসেবে কাজ করার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আমাদের অনুমতি দিলেন কোভিড টেস্টিং শুরু করার জন্য। কোভিড টেস্টিং শুরু করার কয়েক দিনের মধ্যে আমরা পজিটিভ কেস পেলাম। তখন থেকেই আমাদের মাথায় ঢুকল যে আমরা তো করোনাভাইরাসও সিকোয়েন্সিং করতে পারি। তখন আমরা দেখলাম যে দেশের বাইরে হাজার হাজার জিনোম সিকোয়েন্সিং হয়ে যাচ্ছে। তারপর যখন দেখলাম যে ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল পর্যন্ত সিকোয়েন্সিং শুরু করে দিয়েছে, তখন একটা জেদ চলে এল। বাংলাদেশে সিকোয়েন্সিং হতেই হবে। এবং শেষ পর্যন্ত আমরা জিনোম সিকোয়েন্সিংটা করেছি। আমরা করেছি বলতে, পুরো দল করেছে। এখন ৮৩ জন কাজ করেন আমাদের দলে। আমাদের কাজ মূলত সংগৃহীত নমুনা টেস্ট করা।
আমরা স্যাম্পল সংগ্রহেও সহায়তা করে থাকি। পাশাপাশি শিশু হাসপাতালে আমরা শিশুদের নমুনা সংগ্রহের কাজও করি। সিকোয়েন্সিংয়ের একটা দল আছে আমাদের। এটা সাতজনের একটা দল। ওরা তো অনবরত কাজ করেই যাচ্ছে। কিন্তু প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সিএইচআরএফের সবাই অনেক সাহায্য করেছে জিনোম সিকোয়েন্সিংটা করতে।